প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নতুন মেরুকরণ। এই প্রেক্ষাপটে রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই ছিল একতার জয়গান। ১৯৩৭ সালের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক প্রজা পার্টির উত্থান কিংবা ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়—সবই ছিল বিভাজনের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, ২০২৬-এর এই বৈঠকগুলো তারই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের জাতীয় ঐক্যের সুর দেখা দিচ্ছে।
বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান উপস্থিত ছিলেন। তারা শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।
আলোচনাকালে তারেক রহমান দেশে চলমান বিভাজন ও বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু বিভাজনের সংস্কৃতি এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে আমাদের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।"
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যতবারই জাতি বিভাজিত হয়েছে, ততবারই তৃতীয় কোনো পক্ষ বা স্বৈরাচারী শক্তি সুযোগ নিয়েছে। তাই ২০২৬-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসার রাজনীতি ফিরে না আসে, সে বিষয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সাইফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরিবেশ চাই। মব-কালচার ও অস্থিতিশীলতা রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহমর্মিতা এখন সময়ের দাবি।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই 'জাতীয় ঐক্য ও সংহতি'র ডাক ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। যেখানে একসময় বামপন্থী ও ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব ছিল, সেখানে জাতীয় স্বার্থে তাদের এই বৈঠক বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন পালক।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক ও রাজনৈতিক আর্কাইভ (জানুয়ারি ৪, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) - তারেক-সাইফুল হক বৈঠকের বিশেষ সংবাদ। ৩. রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯৭১-২০২৬), তথ্য মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |